বাবাকে রাজাকাররা ধরে পাকিস্তানী আর্মির হাতে তুলে দেয়। যুদ্ধের এক করুণ গল্প??
বাবাকে রাজাকাররা ধরে পাকিস্তানী আর্মির হাতে তুলে দেয়। যুদ্ধের এক করুণ গল্প??
যুদ্ধের সময় বাবা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এলেন।
পাহাড় পর্বত নদী খাল পেরিয়ে থাকতেন মসজিদে মসজিদে।
যখনই এলাকায় এলেন বাবাকে রাজাকাররা ধরে পাকিস্তানী আর্মির হাতে তুলে দেয়।
বাবাকে খালের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজাকাররা বলছেন যুদ্ধের সময় জীবন বাজি রেখে এদেশে আসার উদ্দেশ্য কি?
মুক্তিযোদ্ধা হইবা?
এখন তোমারে মুক্তিযোদ্ধা বানাইতেছি।
সেদিন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি সাবের হোসেন চৌধুরী বাবাকে রাজাকারদের বন্দুকের নল থেকে টেনে নিয়ে আসেন।
তখন থেকেই সাবের চৌধুরীর প্রতি পরম ভালোবাসা আর রাজাকার ও পাকিস্তানীদের প্রতি আজন্ম ঘৃনা ছিল বাবার। জীবনের ৩০টা বছর পাকিস্তানে থাকার পরেও বাবা ঘৃনা করতেন তাদের আর রাজাকারদের।
সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বাবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে রাজাকারের হাতে মরে গিয়েও বেঁচে যাবার ঘটনা হয়তো বাবার জীবনে প্রথম ট্রাজেডি।
কিন্তু বড় ট্রাজেডি ছিল ২৪/২৫ বছরের সুদর্শন টগবগে প্রিয় সন্তানের অপমৃত্যু। তখন থেকেই বাবা অন্যরকম হয়ে যান। আমৃত্যু চুপসে যান।
বাবা মারা গেলেন,আমরা শোকে মূহ্যমান।
জানাজার প্রাঙ্গনে কে এলো কে এলোনা সেটা নিয়ে ভাবার মানসিকতা কই?
কিন্তু বয়ষ্কদের মধ্যে বলাবলি হচ্ছে, নেতৃস্থানীয় অনেকেই 'বিপ্লবের বাবা'- হিসেবে অন্তত জানাজায় আসতে পারতো। খোঁজ খবর নিতে পারতো।
কেউ আসেনি। কেউ কথা রাখেনি।
শোকের মধ্যেও খুব অস্বস্তি কাজ করছিলো মুরুব্বিদের কথাগুলো শুনে।
এই কথাগুলোর মধ্যেই সবার নজরে এলো দূরে গাড়ি পার্ক করে দাড়িয়ে আছেন একজন সুদর্শন জননেতা।বুঝা যাচ্ছে লাশ আসার আগে থেকেই তিনি দাড়িয়ে আছেন!
উনার উপস্থিতি আসলেই অন্তরে দাগ কাটে আমার।
হ্যাঁ নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে একমাত্র তিনিই এলেন।
শুধু এলেনই না। আমাদের সান্ত্বনা দিলেন ৯৬'র তিক্ত স্মৃতিচারন করলেন।
সাহস যোগালেন আমাদের।
একেবারে সহজ সরল ভাষায়।পলিটিশিয়ানদের মধ্যে যে একটা মেকি এটিচ্যুড থাকে তার ছিঁটেফোটাও নেই।
হ্যাঁ তিনি মনের কথাগুলো সবসময় এভাবেই সাবলীলভাবে তুলে ধরেন সবার সামনে।
অথচ তিনি না এলেও পারতেন।
এ যুগে কে কার খবর রাখে!
কাজ শেষে কর্মীরা তো টয়লেট টিস্যুর মতই!
এ ব্যপারটা আমাকে খুবই ভাবিয়ে তোলে। একবার নয় বার বার কত শত বার।
আমি এখন খুব আগ্রহ নিয়েই মানুষের জানাজায় যাই।আর সেদিনের কথাই কেবল ভাবি।
শুনলাম আজ আপনার জন্মদিন। আপনাকে দেয়ার মত আমার কিছুই নেই। তবে ভালোবাসা আছে। যেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
সেখান থেকে সব সময় আপনাকে ভালোবাসা দিতে চাই।
সবসময়ই।
প্রায় সময়ই আপনার সাথে ফোনে কথা হয় ১০/২০ মিনিট নয় ঘন্টার পর ঘন্টা। কি নেই সেই আলোচনায়?
ধর্ম,রাজনীতি,বৈশ্বিক রাজনীতি,বিজ্ঞান,মহামানবদের কথা আর সংগঠন হিতকরী।
এতটুকুও বিরক্ত লাগেনা।
করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বার বার খোঁজ নিচ্ছেন হিতকরীয়ানদের।
গরীব দুঃখী মানুষদের।
কীভাবে সঠিক লোকের কাছে ত্রান পৌছে দেয়া যায়!
কি ভাবে কি করা যায়!
আমার ২০ বছরের সোশাল ওয়ার্ক লাইফে ফার্স্ট এক্সপেরিয়েন্স!
আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করি।
ভালো থাকুন,সুখে থাকুন সবসময়।শুভকামনা।

কোন মন্তব্য নেই
please do not enter any spam link in the comment box.